Sonali E wallet:সোনালী ব্যাংকের সোনালী ই ওয়ালেট ২০২৪

আজকে আমরা এই পোস্টটির মাধ্যমে আলোচনা করবো সোনালী ব্যাংক এর ওয়ালেট সম্পর্কে সকল তথ্য। সোনালী ই ওয়ালেট খুব সহজেই গুগল প্লে স্টোর থেকে ডাউনলোড করে ব্যবহার করতে পারবেন। সেজন্য প্রথমে গুগল প্লে স্টোরে প্রবেশ করতে হবে আপনার মোবাইল হতে এবং Sonali e wallet লিখে সার্চ করতে হবে। আপনি যদি এন্ড্রয়েড ব্যবহারকারী হয়ে থাকেন, তাহলে আপনাকে গুগল প্লে-স্টোরে গিয়ে ডাউনলোড করতে হবে। কিন্তু, আপনি যদি আইফোন ব্যবহারকারী হয়ে থাকেন, তাহলে আপনাকে অ্যাপ স্টোরে গিয়ে সোনালী ব্যাংক ই ওয়ালেট অ্যাপটি ডাউনলোড করতে হবে।

সোনালী ই ওয়ালেট ব্যবহার করলে কি কোন চার্জ কাটবে?

এসএমএস সার্ভিস চার্জঃ

ব্যাংকে রয়েছে দুই ধরনের এসএমএস সার্ভিস সুবিধা।

১. Transaction Alert SMS Service (প্রতিটি লেনদেন এর জন্য তাৎক্ষণিক এসএমএস সেবা)

২. Push Pull SMS Service (নির্দিষ্ট কোড টাইপ করে ম্যানুয়ালি বিভিন্ন তথ্যাদি যেমন ব্যালেন্স, মিনি স্ট্যাটমেন্ট ইত্যাদি জানতে চাওয়া সম্পর্কিত এসএমএস সেবা)

প্রথমেই বলে নেই, এই দুই ধরনের সার্ভিসই কিন্তু সর্ম্পূণ ঐচ্ছিক। আপনাদের আবেদন এর প্রেক্ষিতেই ব্যাংক এর সংশ্লিষ্ট শাখা এই সার্ভিসগুলো একটিভেট করেছে। তো যাদের হিসাবে দুই ধরনের সার্ভিসই একটিভ করা আছে তাদের প্রতিটির জন্য চার্জ কেটেছে ভ্যাটসহ ৫৮ টাকা করে (চার্জ ৫০ টাকা + ভ্যাট ৮ টাকা)। এই চার্জটি প্রতি ৬ মাসে একবার কর্তন করা হয়ে থাকে অর্থাৎ জুন মাসে একবার এবং ডিসেম্বর মাসে একবার। এখন, কেউ যদি মনে করেন, আপনার Push Pull SMS Service সেবাটির প্রয়োজন নেই, সেক্ষেত্রে শাখায় গিয়ে যথাযথভাবে আবেদন করে সেবাটি বন্ধ করে দিতে পারেন।

TDS কর্তনঃ

ব্যাংক প্রতি ৬ মাসে আপনার একাউন্ট এর গড় স্থিতির উপর নির্দিষ্ট হারে মুনাফা প্রদান করে থাকে যেটা ইতোমধ্যে আপনাদের হিসাবে জমা হয়ে গিয়েছে। এই মুনাফার উপর সরকার একটা নির্দিষ্ট হারে উৎসে কর কর্তন করে থাকে যেটাকে বলে TDS (Tax Deducted at Source)।

এই মুনাফার হার বিশেষে ১৫% অথবা ১০%। আপনার যদি TIN সার্টিফিকেট বা আয়কর সনদ থাকে এবং সেটা যদি আপনার ব্যাংক একাউন্ট এ সংযুক্ত করা থাকে তাহলে ব্যাংক কর্তৃক আপনাকে প্রদত্ত মুনাফার উপর সরকার ১০% TDS কর্তন করে নিবে। আর যদি TIN সার্টিফিকেট না থাকে তাহলে সেই হারটা হবে ১৫%। অর্থাৎ ব্যাংক আপনাকে মুনাফা দেয় আর সরকার সেই মুনাফা থেকে TDS কেটে নেয়।

Maintenance Charge বা রক্ষণাবেক্ষণ ফি:

আপনারা সবাই জানেন যে, ব্যাংক একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান। ব্যাংক আপনাকে যে সেবা দিচ্ছে তার জন্য আপনার হিসাব হতে প্রতি ৬ মাসে একবার Maintenance Charge কর্তন করে থাকে এবং সেটা নির্ভর করে আপনার হিসাবে গেল ৬ মাসে ‘গড় আমানত স্থিতি’ কী পরিমাণ ছিল সেটার উপর। কী হারে তা কর্তন করা হবে সেজন্য বাংলাদেশ ব্যাংক একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ নির্ধারণ করে দিয়েছে। সোনালী ব্যাংক সর্বদা বাংলাদেশ ব্যাংক নির্ধারিত হারে এই Maintenance Charge বা হিসাব রক্ষণাবেক্ষণ ফি কর্তন করে থাকে। সম্মানিত গ্রাহকদের সুবিধার জন্য এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক এর সর্বশেষ সার্কুলার মোতাবেক সঞ্চয়ী হিসাবের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নির্ধারিত ফি টি তুলে ধরছি (বিআরপিডি সার্কুলার নং-১১, তারিখঃ ১০ জুন, ২০২১):

কত টাকা মেনটেনেন্সে চার্জ দিতে হবে:

– ১০,০০০/- টাকা পর্যন্ত সম্পূর্ণ ফ্রি

– ১০,০০০/- টাকার অধিক কিন্তু ২৫,০০০/- টাকা পর্যন্ত ১০০/-

– ২৫,০০০/- টাকার অধিক কিন্তু ২.০০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ২০০/-

– ২.০০ লক্ষ টাকার অধিক কিন্তু ১০.০০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ২৫০/-  এবং

– ১০.০০ লক্ষ টাকার অধিক গড় আমানত স্থিতির ক্ষেত্রে ৩০০/-

সোনালী ই ওয়ালেট কেন ব্যবহার করবেন?

সোনালী ই-ওয়ালেট হল বাংলাদেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বাণিজ্যিক ব্যাংক সোনালী ব্যাংক লিমিটেডের মোবাইল ওয়ালেট অ্যাপ। এটি একটি গতিশীল এবং সুরক্ষিত ওয়ালেট অ্যাপ যা আপনার দৈনন্দিন লেনদেনের প্রয়োজনীয়তা যেমন ফান্ড ট্রান্সফার, মোবাইল এয়ারটাইম রিচার্জ এবং বিল পেমেন্ট ইত্যাদি পূরণ করে ।

সোনালী ই ওয়ালেট ব্যবহার করে কিভাবে ব্যালেন্স চেক করবেন?

  1. প্রথমে আপনি গুগল প্লে স্টোর থেকে Sonali e wallet ইনস্টল করবেন।
  2. Signup ব্যবহার করে Application সম্পন্ন করবেন যেখানে ব্যাংক একাউন্ট নম্বর, এনআইডি, মোবাইল নম্বর, রাউটিং নম্বর ও ব্রাঞ্চ সিলেক্ট করে ৬ সংখ্যার পাসওয়ার্ড দিবেন।
  3. ব্যাংক হতে ম্যানুয়ালি বা সরাসরি যোগযোগ করে অ্যাপ আবেদন অনুমোদন করাবেন।
  4. এখন আপনি অ্যাপ মোবাইল নম্বর এবং পাসওয়ার্ড দিয়ে লগিন করবেন।
  5. One Click on Bank Balance
  6. আপনাকে ব্যাংক ব্যালেন্স দেখানো হবে।
  7. যেহেতু এক হাজার টাকা ব্যালেন্স রাখতে হয় তাই এক হাজার টাকা কম দেখাবে।

বেনিফিশিয়ারি অ্যাড করার পদ্ধতি:

  • মোবাইল অ্যাপ বা ওয়েবের মাধ্যমে আপনার ইন্টারনেট ব্যাংকিং একাউন্টে লগ ইন করুন
  • Manage beneficiary অপশনে যান
  • নির্দেশিত ধাপগুলো অনুসরণ করে বেনিফিশিয়ারি হিসেবে বিকাশ একাউন্ট অ্যাড করুন
  • এবার আপনি বেনিফিশিয়ারি বিকাশ একাউন্টে ফান্ড ট্রান্সফার করতে পারবেন

Leave a Comment