ওয়ারিশ সম্পত্তি নামজারি করার নিয়ম ২০২৩

ওয়ারিশান সম্পত্তিতে বিবাদ ও সহজ সমাধান

ওয়ারিশান সম্পত্তিতে নামজারি করতে গেলে প্রত্যেক দাগে যতজন ওয়ারিশান সবার অংশ অনুযায়ী নামজারি করতে হয়।দাগে দাগে আপোষ করে নামজারি করতে হলে বা কেউ কম বেশি অংশ বা সম্পত্তি নিতে চাইলে আলাদা আপোষ বন্টননামা দলিলের দরকার হয়।। চাইলেও একজন ওয়ারিশ অন্যজনের সম্পত্তি বাড়তি নিজ নামে নামজারি করতে পারে না। উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত জমিতে নামজারি করে নেন ৷ এতে আপনার অংশ সুনির্দিষ্ট হয়ে যাবে। অন্য ওয়ারিশ জোর করে ভোগ করার সুযোগ নাই।

নামজারি কী এবং কখন করতে হয়?  

ব্যক্তি অথবা প্রতিষ্ঠান বৈধ পথে ভূমির এবং জমি মালিকানা অর্জন করলে সরকারি রেকর্ড সংশোধন করে তার নিজের নামে রেকর্ড হালনাগাদ বা Up to Date করাকে নামজারি বলা হয়।

নামজারি যখন করা সম্পন্ন করা হয়। তখন নতুন নাম্বারে একটি খতিয়ান নতুন মালিক কে দিয়ে  থাকে। সেই খতিয়ান নামজারি কারীর অর্জিত জমির একখানি সংক্ষিপ্ত কথা উল্লেক থাকে। খতিয়ানে মালিকের নাম, মৌজা, মৌজার নম্বর (জে এল নম্বর), জরিপের দাগ নম্বর, দাগে জমির পরিমান, জমির শ্রেণি, একাধিক মালিক হলে তাদের নির্ধারিত অংশ ও প্রতি বছরের ধার্যকৃত খাজনা (ভূমি উন্নয়ন কর) ইত্যাদি লিপিবদ্ধ থাকে।

যেসকল কারনে নামজারি করা প্রয়োজন হয়ঃ

ভূমি বা জমির মালিকের মৃত্যুতে আইনগত অয়ারিসগনের অনুকূলে মালিকানা  উত্তরাধিকারদের নামে সরকারি রেকর্ডে রেকর্ডভুক্ত করতে হলে নামজারি করতে হয়।

রেজিস্টি দলিল জমি বা ভূমি ক্রয় বিক্রি, দান, ওয়াকফ, হেবা, অধিগ্রহণ, নিলাম ক্রম, বন্দোবস্ত ইত্যাদি সূত্রে গ্রহিতার অনুকূলে মালিকানা হস্তান্তর বা পরিবর্তন হলে নতুন ভূমি বা জমি মালিকের নামে রেকর্ডভুক্ত করতে হলে নামজারি করতে হয়।

নামজারি করতে কত সময় লাগে?

জমি বা ভূমির নামজারি প্রক্রিয়া সাধারণত ক্ষেত্রে ২৮ (আটাশ) কার্য দিবস নিষ্পত্তি হয়ে থাকে। নামজারির জন্য আবেদন করা জমিটি আপনি ক্রয়, ওয়ারিশ, হেবা, ডিক্রি, নিলাম, বন্দোবস্ত, অন্যান্য কী সূত্রে পেয়েছেন তা চিহ্নিত করতে হবে। প্রবাসীদের জন্য ( মহানগর এলাকায়) ১২ (বার) কার্য দিবস । ও প্রবাসীদের জন্য ( অন্যান্য এলাকায়) ০৯ (নয়) কার্য দিবস। আবার  মুক্তিযোদ্ধা সনদ প্রাপ্ত বাক্তিদের জন্য ১০(দশ) কার্য দিবস। এবং রপ্তানীমুখী/বৈদেশিক/ গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগপুষ্ট শিল্প প্রতিষ্ঠানের জন্য ০৭ (সাত) কার্য দিবস ।

মিউটেশনের খরচ কত? (সকল ফি অনলাইনে পরিশোধ করতে হবে)

মিউটেশন/ খারিজ/নামজারির জন্য করতে সর্বমোট ১১৭০ টাকা লাগে। নিম্নলিখিত হারে অনলাইনে ফিস প্রদান করতে হয়- ১০০০/-(এক হাজার) টাকা( রেকর্ড সংশোধন ফি ১০০০/-টাকা )। বিঃ দ্রঃ নামজারির পুরো ১,১৭০ টাকাই অনলাইনে পরিশোধ করা যায়। 

জমির নামজারি কিভাবে করতে হয়?

নামজারি করতে ভূমি মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে গিয়ে নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া অনুসরণ করে আবেদন করতে হয়। আবেদনের সঙ্গে সাধারণত মালিকের পরিচয়পত্র, ছবি ও মোবাইল নম্বরসহ জমির বিস্তারিত পরিচয় দিতে হয়। খতিয়ান দাগ নম্বর, নম্বর,জমির পরিমাণ, মৌজা, জেলা উল্লেখ করতে হবে এবং দলিলের স্ক্যান কপি আপলোড করতে হবে।

জমির মালিকের মৃত্যুতে আইনগত ওয়ারিশ করতে হবে। সাধারণত পারিবারিক জমির মালিকানা পরিবর্তনে আমরা এই ধরনের নামজারি করা দেখতে পাই। ধরুন আপনার পিতার সম্পত্তি পিতার মৃত্যুর পর আপনার নামে পরিবর্তিত হবে। এই ধরনের নাম যা মালিকা না পরিবর্তনে খতিয়ান করাই হলো ওয়ারিশ নামজারি। আপনার পিতার মৃত্যুর পর বা পিতা থাকাকালীন পিতার সম্পত্তি আপনার নামে মালিকানা নিশ্চিত করতে অবশ্যই ওয়ারিশ নামজারি করতে হবে।

জমির নামজারি করতে কি কি লাগে।

আবেদনে নাম, ঠিকানা, রেজিস্ট্রি ক্রয় দলিলের নম্বর ও সাল স্পষ্ট থাকতে হবে। একই সঙ্গে মূল দলিলের অনুলিপি, ভায়া দলিল, পরচা বা খতিয়ানের অনুলিপি, ভূ-উন্নয়ন কর পরিশোধের দলিল, ওয়ারিশান সনদপত্র (তিন মাসের মধ্যে ইস্যু করা), বণ্টননামা (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) দিতে হবে।

  • সর্বশেষ রেকডীয় পর্চা। অর্থাৎ মৃত ব্যাক্তির নামে মৃত্যুর আগে সর্বশেষ যে রেকর্ড করেছিলেন। যেমন-সি.এস/এস.এ/আর.এস/বি.এস/সিটি ইত্যাদি।
  • মূল দলিল।  অর্থাৎ যে দলিলের ভিত্তিতে (যদি সম্পত্তি ক্রয় করে থাকেন) মৃত ব্যক্তি জমির মালিক হয়েছিলেন।
  • ওয়ারিশ সনদ। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, সিটি কর্পোরেশন থেকে মৃত ব্যক্তির ওয়ারিশ সনদ আনতে হবে।
  • কোর্টের সাকশেসন সার্টিফিকেট (সম্ভব্য ক্ষেত্রে)।
  • ওয়ারিশদের প্রত্যেকের পাসপোর্ট সাইজের ছবি এক কপি করে।
  • মৃত ব্যক্তির পরিচয় পত্র বা NID কার্ড।
  • যারা মৃত ব্যক্তির ওয়ারিশ তাদের প্রত্যেকের NID কার্ড বা পরিচয়পত্র।
  • ওয়ারিশদের মধ্যে বন্টননামা দলিল। অর্থাৎ ব্যাক্তির মারা যাওয়ার পর তার সম্পত্তি ওয়ারিশদের মধ্যে রেজিস্ট্রারী বন্টননামা দলিল করতে হবে(যদি প্রয়োজন হয়)।
ই-নামজারি / মিউটেশন আবেদন ফর্ম 

নামজারির আবেদন করার জন্য নামজারি আবেদন ফর্ম রয়েছে। যা আপনি সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিস বা অনলাইন থেকেও এই আবেদন ফরম সংগ্রহ করতে পারেন। যেখানে আপনার জমি সংক্রান্ত বিষয়বলি ও আপনার সম্পর্কিত তথ্যাবলী ফর্মে কলম দ্বারা পূরণ করতে হবে। ফর্মের নামজারি ফরম সাথে অবশ্যই যা যা থাকতে হবে:

১. আপনি যে জমি ক্রয় করেছেন বা যেই জমির মালিকানা পেতে চান সেই জমি সংক্রান্ত সমস্ত কাগজপত্র ।

২.আবেদন ফরমের সাথে আপনার বাংলা বছরের হিসাব করে জমি খাজনার রশিদ দিতে হবে। 

৩.যদি আপনি অন্য কোন মালিকের কাছ থেকে জমি কিনে জমির মালিকানা করতে চান সেক্ষেত্রে দলিলের ফটোকপি দিতে হবে।

৪. ওয়ারিশ সূত্রে মালিকানা হলে ইসুকিত মূল ওয়ারিস সনদপত্র।

৫. জাতীয় পরিচয়

৬.জাতীয়তা সনদপত্র 

৭.পাসপোর্ট (যদি থাকে)

৮. ২০ টাকা মূল্যের কোর্ট ফিস

৯.১ কপি পাসপোর্ট সাইজ ছবি।

আপনি যেভাবে জমির মালিকানা প্রাপ্ত হয়সেন তার ওপরে নির্ভর করবে কোন নিতি আপনার প্রয়জন। সকক কাগজপত্র একসাথে পিনাপ করে আপনার সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসে জমা দিতে হবে।

Leave a Comment